Wednesday, August 14, 2019

হিন্দু সংহতি প্রযোজিত তথ্যচিত্র

১৯৪৬ এর ১৬ই আগষ্ট আমার  জাতিসত্তাকে খুন করার দিন। বিশ্বাসঘাতক মুসলিম লীগের হিন্দু গণহত্যার দিন। কল্লোলিনী তিলোত্তমা কলকাতাকে সনাতনী রক্তের নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার দিন। আবার ১৯৪৬ এর ১৬ই আগষ্ট আমাকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রেরণাও দেয়। আত্মবিস্মৃত বাঙলার হিন্দু সমাজকে নতুন করে জিহাদী অত্যাচারের ইতিহাসের সামনে বার বার দাঁড় করিয়ে দেওয়ার জন্যই হিন্দু সংহতির জন্ম। হিন্দু সংহতির জন্ম নতুন ইতিহাস গড়ার জন্যও। অবশ্যই দেখুন ও শেয়ার করুন
হিন্দু সংহতি মিডিয়া প্রোযোজিত
ডকুমেন্টারি,
" রক্ত শোধের দিন, ১৬ই আগষ্ট।"

Tuesday, August 13, 2019

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি

বাংলাদেশের পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। আমার সাধারণ বুদ্ধিতে ওখানে হিন্দুর শেষ হয়ে যাওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। ভারত সরকার হয়তো পাশেই চিনের উপস্থিতির কথা ভেবে বাংলাদেশের হাসিনা সরকারকে ফেভার করছে। কিন্তু সেখানকার হিন্দুদের নিরাপত্তা বলে আর কিছুই নেই।

একটা আন্তর্জাতিক চাপকে সামনে রেখেই এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা সম্ভব। তারজন্য এপারে পালিয়ে আসা হিন্দুদের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে বলে আমি মনে করি।

এদেরকে ভারতে একটা হলফনামা দিয়ে স্বীকার করতে হবে যে তারা ওপারে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে অত্যাচারিত হয়ে অথবা সম্ভাব্য অত্যাচারের আশঙ্কায় ভারতে এসেছে।

কয়েক লাখ হলফনামাকে ভিত্তি করে একটা বিরাট আন্তর্জাতিক চাপ বাংলাদেশ সরকারের উপরে সৃষ্টি করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইস্যুতে চিনের হস্তক্ষেপকেও আটকানো যেতে পারে। তখন অনেকগুলো বিকল্প পথ হিন্দুদের সামনে খুলে যাবে বলে আমার ধারণা -

১) হিন্দুদের জন্য কয়েকটি স্বায়ত্বশাসিত জেলা এবং সেই জেলাগুলোতে ভারতীয় সেনার উপস্থিতি।

২) বাংলাদেশ ভেঙে হিন্দুদের জন্য একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠন, পরে ভারতের অন্তর্ভূক্তি।

আজকে অবাস্তব মনে হলেও একেবারে অসম্ভব নয়। কিন্তু বাঙালি হিন্দু নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য কতটা মরিয়া হয়ে উঠতে পারবে, সবটাই তার উপরে নির্ভর করছে।

Sunday, August 11, 2019

শিয়ালদহ রেল স্টেশন‌ই বাঙালি-হিন্দু নির্যাতনের আদর্শ স্মারক

দেশভাগের সময় থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে বাঙালি হিন্দুদের যে অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছে, তার থেকে বড় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাস এই পৃথিবীতে আর নেই। হিন্দু হলোকাস্টের স্মৃতিস্বরূপ একটা মনুমেন্ট এই পশ্চিমবঙ্গে থাকার দরকার ছিলো না? আপনারা সেই ভয়াবহ স্মৃতি ভুলে যেতে চান? আগামী প্রজন্মেকে সেই ইতিহাস ভুলিয়ে দিতে চান?ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়ার অর্থ আগামী প্রজন্মকে সেই একই  ঐতিহাসিক পরিস্থিতির শিকার হ‌ওয়ার‌ দিকে ঠেলে দে‌ওয়া।

হিন্দু সংহতি সেই ইতিহাস ভুলতে দেবে না। আমরা মনে করি এই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে বাঙালি হিন্দু আবার ঘুরে দাঁড়াবে, যেভাবে ১৯৪৬ এ গোপাল মুখার্জীর নেতৃত্বে রুখে দাঁড়িয়েছিলো। বাঙালি হিন্দু যে জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি, নির্মম-নিষ্ঠুর ভিসুভিয়াস্ - এই উপলব্ধি বাঙালি হিন্দুর না হলেও সুরাবর্দী সহ মুসলিম গুন্ডাদের সেদিন নিশ্চিতরূপে হয়েছিলো। মাথায় হাত দিয়ে লালবাজারে বসে পড়েছিলেন তিনি। বাঙালি আজ উদাসীন, হতাশ তার কারণ বাঙালির ইতিহাস বিস্মৃতি। এই ইতিহাস ভুলতে দেওয়া যাবে না।

দেশভাগের শিকার বাঙালি হিন্দুর উপরে অবর্ণনীয় অত্যাচারের স্মৃতি বহন করবে এই রকম একটা মনুমেন্ট এই কলকাতায় চাই ই চাই। আমার ধারণা এই ইতিহাসের সবথেকে বড় সাক্ষী এই শিয়ালদহ রেল স্টেশন। শিয়ালদহ রেল স্টেশন‌ই সেই আকাঙ্ক্ষিত মনুমেন্ট হতে পারে। আসুন, শিয়ালদহ রেল স্টেশনকে #ডঃ_শ্যামাপ্রসাদ_মুখার্জী_টার্মিনাস্ নামকরণ করার মাধ্যমে তাকে বাঙালি হিন্দুদের ইতিহাসের একটা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্মারক হিসেবে গড়ে তোলার দিকে একধাপ এগিয়ে যাই।

Saturday, August 10, 2019

হালাল কি এবং কেন এটি বর্জন করা প্রয়োজন

অনেকের ধারণা একমাত্র জবাই করে কাটা পশুর মাংসই হলো হালাল। বাস্তবে হালাল শব্দের অর্থ ‘ইসলাম অনুযায়ী বৈধ’ অথবা ‘শরিয়া আইন দ্বারা অনুমোদিত’। ইসলামের অনুশাসন অনুযায়ী জীবনের সমস্ত ক্ষেত্রেই হালাল(বৈধ) এবং হারাম(অবৈধ) এর বিধান নিশ্চিত করে বলা আছে। মুসলমানদের জন্য সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত সব কার্যকলাপ ফরজ(কর্তব্য), মুস্তাহাব(প্রস্তাবিত), হালাল(বৈধ), হারাম(অবৈধ) এবং মক্রুহ্(বৈধ নয়, আবার একেবারে নিষিদ্ধও নয়)- এভাবে শ্রেণিবিন্যাস করা আছে।
খাদ্যের মধ্যে মূলতঃ শুকর, জবাই না করে কাটা পশুপাখী, আল্লাহ্-র নাম না নিয়ে জবাই করা পশুপাখী, রক্ত, নেশার বস্তু(মদ সহ), মৃত পশুপাখীর মাংস(তবে মৃত মাছ বাদে) – এগুলো হারাম। তবে কোরানে একথাও বলা আছে যে যখন হারাম খাবার না খেলে বেঁচে থাকা যাবে না, তখন জীবন রক্ষার্থে হারাম খাবারও হালাল হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। এছাড়াও নামাজ পড়া, অজু করা, স্ত্রী সঙ্গম, লুটের মাল গ্রহণ থেকে শুরু করে মল-মূত্র ত্যাগেও হালাল-হারামের ব্যাপার স্যাপার আছে।
বিশ্বব্যাপী বিশাল মুসলিম জনসংখ্যা একটা লোভনীয় বাজার। এই বাজারকে কাজে লাগিয়ে ইসলামী উম্মা-র শক্তিবৃদ্ধি করা, বিশেষতঃ অমুসলমানদের কাছ থেকেও এই কাজে শক্তি সংগ্রহ করার কৌশলের নাম হলো হালাল সার্টিফিকেশন। পৃথিবীতে অনেকগুলো সংস্থা তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন প্রোডাক্ট, ব্র্যান্ড, রেস্টুরেন্টকে হালাল সার্টিফিকেট দেওয়ার জন্য। এই সার্টিফিকেটের বিনিময়ে মোটা টাকা বিভিন্ন কোম্পানীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়। বিশ্বব্যাপী মুসলিম জনবাজারে নিজেদের মাল বিক্রীর লোভে বড় থেকে ছোট অনেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এই হালাল সার্টিফিকেট কেনে মোটা টাকার বিনিময়ে। ভারতে হালাল সার্টিফিকেশনের বড় সংস্থাগুলি হলো গ্লোবাল ইসলামিক শরিয়া সার্ভিসেস্ (GISS), হালাল ফুড অথরিটি (HFA), জমিয়ত উলেমা–এ–হিন্দ হালাল ট্রাস্ট প্রভৃতি। আমরা অনেকেই কেএফসি, জোম্যাটো প্রভৃতি ব্র্যান্ডের খাবার খেয়ে থাকি, যে ব্র্যান্ডগুলো হালাল সার্টিফায়েড। এছাড়াও ভারতের ছোট-বড় অধিকাংশ হোটেল-রেস্টুরেন্টেই হালাল খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতি বড় বড় হরফে লেখা থাকতে দেখা যায়। এখন পাড়ায় পাড়ায় মাংসের দোকানগুলোতেও হালাল ছাড়া পাওয়া যায় না। যদিও আগেই বলেছি হালাল সার্টিফিকেশন শুধুমাত্র খাদ্যাখাদ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ওষুধপত্র, এফএমসিজি প্রোডাক্টও এর আওতায় পড়ে।
ষ্টেট অফ গ্লোবাল ইসলামিক ইকোনমী নামক সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী  বিশ্বব্যাপী হালাল সার্টিফায়েড  সামগ্রীর বাৎসরিক বাজার মূল্য ২.১ লক্ষ কোটি ডলারেরও বেশী। এই বিপুল টাকার একটা অংশ নিয়মিতভাবে কট্টর ইসলামিক সংস্থাগুলোর কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, যারা হালাল সার্টিফিকেট দেওয়ার অধিকারী। এখন এই টাকা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ধর্মান্তরণের কাজে, শরিয়া আইন প্রচারের কাজে ব্যবহার হচ্ছে না কিংবা জাহাদী সন্ত্রাসবাদীদের হাতে অথবা ভারতের শত্রুদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে না তা নিশ্চিত করে কে বলতে পারে?
এবার একটু মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখা যাক এই হালাল এবং আমাদের ঝটকা মাংসের বিষয়টাকে।  হালালের সময়, একটি ধারালো ছুরিকে প্রাণীটির গলায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। তারপর ছুরিটিকে না তুলে বারবার গলায় চালানো হয় যাতে শ্বাসনালী, খাদ্যনালী, মস্তকে রক্তসংবহনকারী স্কন্ধদেশের ধমনী (carotid arteries), স্কন্দদেশের শিরা (jugular vein) এবং ভেগাস স্নায়ু খণ্ডিত হয়। এতে শরীর থেকে রক্ত নির্গত হতে থাকে এবং প্রাণীটি পরিণামে প্রাণ হারায়। এই পদ্ধতিকে বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় বলে ventral neck incision (VNI)। এতে মেরুদণ্ডের স্নায়ুতন্ত্র প্রাণীটির মৃত্যু হওয়া পর্যন্ত অক্ষত থাকে। অপরপক্ষে আমাদের ঝটকা পদ্ধতিতে হত্যার সময়, ঘাড়ের পিছনের দিকে (dorsal neck) কাটা হয় যাতে মাথার খুলিকে মেরুদণ্ডের সুষুম্নাকাণ্ড (spinal cord) থেকে নিমেষে আলাদা করা হয়। কেবল ঘাড়ের কর্তন (cervical dislocation)-ই নয়, বরং এক আঘাতে মস্তকের শরীর থেকে বিচ্ছন্ন করাই এর উদ্দেশ্য। তাই এই পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয় অপেক্ষাকৃত ভারী এবং ধারালো অস্ত্র। সাধারণভাবে আমাদের শরীরের, আরও সঠিকভাবে বললে সোমাটিক কোষগুলো থেকে কোন অনুভূতি কিছু বিশেষ প্রোটিন (বৈজ্ঞানিক পরিভাষায়, cognate receptor proteins) লাভ করে যারা সেই অনুভূতিকে স্নায়ুর মাধ্যমে প্রেরণ করে। স্নায়ু আসলে কিছু নিউরোণ কোষের সমষ্টি মাত্র। স্নায়ু অনুভূতিকে মেরুদণ্ডের সুষুম্নাকাণ্ডের মাধ্যমে মস্তিষ্কে প্রেরণ করে। মস্তিষ্ক এই অনুভূতির প্রতিক্রিয়া সেই সুষুম্নাকাণ্ডের নিউরোণের মাধ্যমেই পাঠায় মাংসপেশীগুলিতে (effector muscles)। মাংসপেশীগুলি মস্তিষ্ক প্রেরিত বার্তাকে ক্রিয়াতে রূপ দেয়। হালালের সময় এই তীব্র যন্ত্রণার অনুভুতি পাঠানোর স্নায়ু বিচ্ছিন্ন হয় না। ফলে পশুটি সেই যন্ত্রণা সম্পূর্ণ সচেতনভাবে অনুভব করতে থাকে। পক্ষান্তরে ঝটকার সময় এই পথটিকে নিমেষের মধ্যে ছিন্ন করা হয়। ফলে ঝটকার সময় বলিপ্রদত্ত প্রাণীটির ব্যথার অনুভূতি সেই মুহূর্তেই হারিয়ে যায়। ব্যথা পরিমাপের এক স্বীকৃত পদ্ধতি হল ইইজি বা ইলেক্ট্রো এনসেফ্যালোগ্রাম। এই যন্ত্রটি মস্তিষ্কের নিউরোণের বৈদ্যুতিক বার্তাকে পরিমাপ করে। গরু বা ভেড়ার মত শান্ত প্রাণীরা তাদের যন্ত্রণার অনুভূতিকে বাইরে সবসময় প্রকাশ করে না। কিন্তু ইইজি পদ্ধতিতে তাদের ব্যথা স্পষ্টতই প্রকাশ পায়। বৈজ্ঞানিকরা দেখিয়েছেন যে ঝটকা পদ্ধতিতে প্রাণীবধ করলে শিরচ্ছেদের ৫ সেকেণ্ডের মধ্যেই মস্তিষ্কের (cerebral cortex) কার্য বন্ধ হয়। কিন্তু হালালের ক্ষেত্রে প্রাণীটি অনেক সময়ে তার শরীর থেকে চামড়া ছাডিয়ে নেওয়া পর্যন্ত, এমনকি তার শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ শরীর থেকে আলাদা করা পর্যন্ত সচেতন অবস্থায় সেই তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করতে থাকে। এবার আপনারাই ভাবুন কোন পদ্ধতিটা তুলনামূলক মানবিক!
এবার দেখা যাক আমাদের স্বাস্থ্যের উপরে হালাল এবং ঝটকা মাংসের প্রতিক্রিয়া কি। বিভিন্ন গবেষকরা বারবার প্রমাণ করেছেন যে হালাল পদ্ধতিতে প্রাণীবধের সময় প্রাণীগুলি ভীষণ বেদনা বা স্নায়ুমণ্ডলীর ধকল (stress) অনুভব করে। গরু-ষাঁড়, ছাগল ইত্যাদি প্রাণীর ক্ষেত্রে এর ফলে তিনটি ষ্ট্রেস হরমোন (stress hormones), যথা কর্টিসোল (cortisol), নর-এড্রিনালিন (nor-adrenaline) এবং ডোপামাইন (dopamine) ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। কারণটি খুবই সরল,  এই তিনটি হরমোন সমেত আমাদের বেশির ভাগ হরমোনের নিঃসরণই মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অঞ্চলের  দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। আমেরিকান বৈজ্ঞানিক টেম্পল গ্র্যাণ্ডিন দেখিয়েছেন  যে প্রাণীদের সংজ্ঞাহীন করে (stunning) হত্যা না করলে রক্তে কর্টিসোলের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং তাতে মাংসপেশীর তাপমাত্রাও বাড়ে। সাধারণত স্নায়বিক ধকলের কারণে এড্রিনালিন হরমোনের পরিমিত ক্ষরণে মাংসপেশীর গ্লাইকোজেন ল্যাকটিক অ্যাসিডে পরিণত হয়। ফলে মাংসের পিএইচ কমে (অর্থাৎ  মাংস অ্যাসিডিক হয়)। তার ফলে মাংস যে কেবল গোলাপী এবং নরম থাকে তাই নয়, উপরন্তু মাংসে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পায় না। অপরপক্ষে প্রাণীটিকে যন্ত্রণাদায়ক পদ্ধতিতে হত্যা করলে স্নায়ুর ধকল বাড়ে। ফলে এড্রিনালিন হরমোনের অতিরিক্ত ক্ষরণে মাংসপেশীর গ্লাইকোজেন খুব তাড়াতাড়ি নিঃশেষিত হয়। ফলে মাংস যথন রান্না করা হয় ততক্ষণে তাতে আর ল্যাকটিক অ্যাসিড অবশিষ্ট থাকে না। ফলে মাংসের পিএইচ বাড়ে এবং ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার প্রচুর পরিমাণে বেড়ে যায়। অর্থাৎ, হালাল মাংস স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক হয়ে ওঠে।
সব থেকে বড় কথা, এই হালাল হলো মুসলমানদের জন্য শরিয়া অনুমোদিত ব্যবস্থা। এই শরিয়া ব্যবস্থা আমাদের মত অমুসলমানদের জন্য নয়। তাহলে আমরা আংশিক হলেও এই রিগ্রেসিভ, অবৈজ্ঞানিক এবং অমানবিক ইসলামিক শরিয়া আইন নিজেদের উপরে চাপিয়ে নিচ্ছি কেন? আমরা কি এতটাই অসহায় এবং অযোগ্য যে ইসলামের এই সাম্রাজ্যবাদী কৌশলের সামনে আজ আমাদের নতজানু হয়ে আত্মসমর্পণ করতে হবে? আমাদেরও তো একশ কোটির বাজার আছে! প্রয়োজনে আমরাও কি বিকল্প একটা সনাতনী স্টান্ডার্ডের কথা ভাবতে পারি না?
যাইহোক, সব দিক থেকে বিচার করলে এই হালাল ব্যবস্থা অত্যন্ত অবৈজ্ঞানিক, অমানবিক, ইসলামের অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদের নামান্তর। সর্বোপরি আমাদের এই পদ্ধতির মাধ্যমে আংশিকভাবে ইসলামিক শরিয়া আইন পালনে বাধ্য করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত অপমানজনক। তাই আসুন আমরা আপাতত সংকল্প করি আর হালাল নয়, আর অবৈজ্ঞানিক এবং অমানবিক রিগ্রেসিভ ভাবধারার দাসত্ব নয়। আসুন আজ থেকেই সবাই হালাল বর্জন করি।

Tuesday, May 28, 2019

আইডেনটিটির ইস্তেমাল

বাংলাদেশের এক‌ই গ্রাম থেকে দুজন মুসলমান ভারতে ঢুকলো। একজন গেলো আসামের অহমীয়া প্রধান জোরহাটে, অন্যজন সেই আসামের‌ই বাঙালি অধ্যুষিত হাইলাকান্দিতে।

প্রথম জন নিজের পরিচয় দেবে - আমি একজন অহমীয়া। ভাঙাফাটা অসমীয়া ছাড়া কখনোই সে বাংলায় কথা বলবে না। বাঙালি দেখলে বলবে কেলা বঙ্গালি। সে তাম্বুল পান খাবে। বিহুতে আনন্দ করবে। তার বাংলাদেশী পরিচয় লুকিয়ে তখন সে একজন ভূমিপুত্র অহমীয়া।

দ্বিতীয় জন কাঁচা কাছাড়ি ভাষায় কথা বলবে।  জনগণনার সময় নিজের পরিচয় নথিভুক্ত করাবে বাঙালি হিসেবে। সে তাম্বুলের পরিবর্তে সাদার গুড়া(তামাক পাতার গুড়ো) দিয়ে পান খাবে। বিহুর পরিবর্তে সে গাইবে - কে যাস্ রে ভাটিগাঙ্ বাইয়া....., সে নাচবে ধামাইল। সে একজন বাঙালি।

এই গেমপ্ল্যানটা বুঝতে হবে। না বুঝলেই আবার রিফিউজি।

Tuesday, November 6, 2018

তিনসুকিয়া হত্যাকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাই

আসামের তিনসুকিয়ায় আলফা জঙ্গিরা পাঁচজন বাঙালি হিন্দুকে হত্যা করেছে। নিন্দা করার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। তবে কয়েকটা বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।

প্রথমত, আলফা নামের জঙ্গি সংগঠনটির বাস্তবে অস্তিত্ব কতটা আছে, সেটা একটা বড় প্রশ্ন। অনেকদিন আগেই এদের আত্মা মরে গেছে। খোলনলচে যেটুকু পড়ে ছিল, সেটা আইএসআই-এর স্টুজ হিসেবে কাজ করছিল। আমার ধারণা, এখন আইএসআই সরাসরি আলফার নামকে সামনে রেখে কাজ চালাচ্ছে এবং এই নৃশংস হত্যাকান্ডের গেমপ্ল্যানও তাদেরই তৈরী।

দ্বিতীয়ত, আসামের ইসলামিকরণের পথে সব থেকে বড় অন্তরায় নাগরিকত্ব বিল। এই বিল পাশ হলে আসামের জনবিন্যাসের চিত্রটা বদলে যাবে। এনআরসিতে মুসলমানদের নাম খুব বেশী বাদ যায় নি। বরং একটা বিরাট সংখ্যক হিন্দুর নাম বাদ গেছে। সুতরাং নাগরিকত্ব বিল পাশ না হলে আসামে মুসলিম জনসংখ্যার পার্সেন্টেজ এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যাবে। ফলস্বরূপ আসামের রাজনৈতিক ক্ষমতা মুসলমানদের হাতের মুঠোয় সহজেই চলে আসবে। তখন এনআরসি তালিকা বহির্ভূত হিন্দুদের কথা বাদ দিলাম, যাদের নাম তালিকায় রয়েছে তাদের ভবিষ্যত কতটা সুরক্ষিত থাকবে সেটাই কি চিন্তার বিষয় নয়? সংখ্যালঘু অহমীয়া হিন্দুরাও কি সেই জেহাদী আগ্রাসনের হাত থেকে রক্ষা পাবেন?

কিন্তু নাগরিকত্ব বিল পাশ হলে আসামের ইসলামিকরণের এই ষড়যন্ত্র একটা বড় ধাক্কা খাবে। তাই একটা সম্ভাব্য জাতিদাঙ্গার আতঙ্ক সৃষ্টি করে নাগরিকত্ব বিলকে আটকে রাখার চক্রান্তের একটা ঘৃণ্য কাপুরুষোচিত কর্মসূচী হল তিনসুকিয়ার এই পাঁচজন বাঙালি হিন্দুর নৃশংস হত্যাকান্ড। আইএসআই এবং তার দালালরা তাদের স্বপ্নের ইসলামিক আসাম গড়ার লক্ষ্যে যেকোনো মূল্যে নাগরিকত্ব বিল আটকানোর চেষ্টা করছে। অহমীয়া সমাজের একটা ক্ষুদ্র অংশ হুজুগে এদের সাথে তাল মিলালেও বৃহত্তর অহমীয়া সমাজ এই ফাঁদে পা দেবেন না বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। কিন্তু এই সমস্যার সমাধানের একমাত্র উপায় অতিশীঘ্র যেকোনো ভাবে নাগরিকত্ব বিল পাশ করিয়ে হিন্দু বাঙালিদের নাগরিকত্ব প্রদান করা। কেন্দ্র সরকারকে এই দৃঢ় পদক্ষেপ নিতেই হবে। পরিণামে রাজ্যে যদি কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তাহলে তার মোকাবিলা কঠোরভাবে করতে হবে। সর্বোপরি বাঙালি হিন্দু সমাজ এবং অহমীয়া হিন্দু সমাজের সচেতন ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন মানুষদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে কারণ, আজ দুপক্ষের সামনেই অস্তিত্বের সংকট সমুপস্থিত। এই মুহূর্তে মনের মিল না হলেও স্ট্র্যাটেজিক অ্যালায়েন্স করেই এই কাজ করতে হবে।
(কাউকে উপদেশ অথবা জ্ঞান দেওয়া এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। আমার মনের ভাব, যা আমার একান্ত ব্যক্তিগত, তা ব্যক্ত করলাম মাত্র।)

Tuesday, February 2, 2016

আমরা ঘরপোড়া গরু কিন্তু সিঁদুরে মেঘ দেখেও না দেখার ভান করছি

আজকেও বাংলার রাজনীতি ইন্দিরা আবাস, বেকার ভাতা, বিধবা ভাতা, বিপিএল কার্ড, ব্যাঙ্ক লোন থেকে শুরু করে সবুজায়ন - শিল্পায়ন - রাস্তাঘাট - কর্মসংস্থান অর্থাৎ ব্যক্তিগত এবং কিছুটা সমষ্টিগত উন্নতির চার দিকে আবর্তিত হচ্ছে৷ স্বাভাবিক অবস্থায় এটাই কাম্য৷ কিন্তু ভারতীয় রাজনীতিতে মুসলমানদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং এর পরিণাম সম্পর্কে উদাসীনতা দেখে মনে হচ্ছে আমরা বাড়িতে টাকা-পয়সা, সোনাদানা, দামী আসবাব পত্র সংগ্রহ করার নেশায় বাড়িতে নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় শক্ত দরজা জানলা লাগানোর কথাটা বেমালুম ভুলে যাচ্ছি৷ আমরা ঘরপোড়া গরু কিন্তু সিঁদুরে মেঘ দেখেও না দেখার ভান করছি৷ যেদিন ধর্মের ভিত্তিতে বাংলা ভাগ হয়েছিল, সেদিন কি শুধু অধুনা পূর্ববঙ্গের বাঙালী হিন্দুর পরাজয় হয়েছিল? আমরা, পশ্চিমবঙ্গের বাঙালীরাও কি সেদিন সেই ধর্মীয় বিচ্ছিন্নতাবাদের সামনে আত্মসমর্পণ করি নি? আজ বাংলার ২৭% মুসলিমদের পক্ষ থেকে ত্বহা সিদ্দিকি ৪৮টি বিধানসভা সিটের ভাগ্যবিধাতা বলে নিজেকে ঘোষণা করে কি শুধুমাত্র বাংলার রাজনৈতিক নেতাদেরকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন? নাকি এই চ্যালেঞ্জটা আপামর পশ্চিমবঙ্গবাসী বাঙালীর সামনে? আগামী পাঁচ বছর পরেও কি সংখ্যাটা ৪৮ই থাকবে? বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামের পাশে কোন হিন্দু পদবী আর কতদিন শোভা পাবে? এই সব প্রশ্নের শেষ কোথায়? শেষ প্রশ্নগুলি অবশ্যই এই রকম - বাংলা কবে কাশ্মীরে পরিণত হবে? বাংলা কবে হিন্দুবিহীন হবে?

মোদ্দা কথা আমরা ভয়ে এই সব প্রশ্নগুলোকে এড়িয়ে যাচ্ছি৷ মানসিক ভাবে আমরা হার মেনে নিয়েছি৷ না হলে বেড়া না দিয়ে সব্জী চাষ করার মত নির্বোধের কাজ অন্তত বাঙালীর বুদ্ধির সাথে ম্যাচ করে না৷ সাহস অবলম্বন করুন৷ আসুন আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের নিরাপদ জীবনের কথা ভেবে কিছুদিনের জন্য ইন্দিরা আবাস আর চাকরীর কথা ভুলে যাই৷ বাংলাকে কাশ্মীর হতে দেব না৷ বাংলা থেকে বাঙালীয়ানাকে হারিয়ে যেতে দেব না৷ জলকে জল না বলে পানি বলার মত পরিস্থিতি হতে দেব না৷ আমরা স্নান করবো, গোসল করতে বাধ্য হব না৷ আমরা চেক লুঙ্গি পরবো নিজের ইচ্ছায়, বাধ্য হয়ে নয়৷ বাংলার গ্রামে পৌষ মেলা হবে, চড়কপূজা হবে৷ মা কালী পাঁঠার মাথা খাবে, বুড়ো শিব ডুগডুগি বাজাবে৷ মা দুর্গাকে বিদায় দিতে গিয়ে দশমীর দিন আমার মায়েরা চোখের জল ফেলবে৷ লাল পাড়ের সাদা শাড়ি পরে আমার বোনেরা সরস্বতী পূজো করবে, কালো বোরখার অন্ধকারে হারিয়ে যাবে না৷ বীরভূমের বাউল, মালদার গম্ভীরা আর পুরুলিয়ার ছৌনৃত্যের জায়গা আলকাফ আর জালসা কোনদিন নিতে পারবে না - এই স্বপ্ন নিয়ে সব নেতাদের কাছে একবার আমরা যাই৷ চলুন জেনে আসি কে বাংলাকে বাংলাই রাখতে চায়৷ তারপরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি আমার পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে বিধানসভা পর্যন্ত সমস্ত ক্ষমতা আমরা কার হাতে তুলে দেব৷ বাংলার ভবিষ্যত বাংলাই হোক - বাংলাদেশ নয়৷